উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থী পরবর্তী ধাপে কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবে। বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে জিপিএ ও মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। ফলে ভালো ফলের ওপরই পছন্দের কলেজ পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও এসএসসির জিপিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষার জিপিএ'র যোগফল বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম ৮ এবং অন্য শাখায় সাড়ে ৭ প্রয়োজন হয়। বুয়েট বা মেডিক্যালের জন্য প্রয়োজন হয় জিপিএ ১০।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্যও এসএসসির ফল জরুরি। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমায় ভর্তির জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ প্রয়োজন হয়। এছাড়া সরকারি পলিটেকনিকে গণিতে আলাদাভাবে জিপিএ ৩ বা তার বেশি লাগতে পারে। ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরকারি-বেসরকারি বৃত্তিও পেয়ে থাকে।
কর্মজীবনে এসএসসির সরাসরি ভূমিকা সীমিত হলেও এটি একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে এসএসসির ন্যূনতম ফল চাওয়া হলেও বিসিএস পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট জিপিএ চাওয়া হয় না। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ থাকলে প্রার্থী অযোগ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, এসএসসি সনদটি 'ব্লু কলার জব' বা সাধারণ মানুষের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন কাজের লাইসেন্স এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এটি তাদের মৌলিক শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ ও শিক্ষিত হওয়ার সরকারি প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আগামী ২০শে জুলাইকে লক্ষ্য করে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও হতাশ হওয়া যাবে না। পরবর্তী ধাপে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দক্ষতা ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়।