উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন পাশ হয়েছে, যা সাইবার স্পেসে অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও বিচারের জন্য প্রণীত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ বি এম মইনুল হোসেন এই আইনকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, যদিও এতে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক মইনুল হোসেনের মতে, পূর্ববর্তী আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো এখন আর নেই এবং কয়েকটি ধারা ছাড়া বেশিরভাগ অপরাধই অজামিনযোগ্য নয়, যা স্বস্তিদায়ক। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ঘাটতি রয়েছে এবং সরকারি কোনো সংস্থা সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি আইনে স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ডিপফেইক, ভুয়া তথ্য এবং ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট মোকাবিলায় আইনটি আগের চেয়ে আরও যুগোপযোগী হয়েছে। এর শতভাগ কার্যকারিতা নির্ভর করবে দক্ষ তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিত এবং নিরপেক্ষ প্রয়োগের উপর।
নতুন আইনে এআই ব্যবহার করে তৈরি (ডিপফেইক) কনটেন্টকে স্পষ্টভাবে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও তৈরি করে কারও ক্ষতি করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। এছাড়াও, ভুয়া তথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সংজ্ঞাগুলো সংশোধন করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত কনটেন্ট অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবে। কিছু অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে প্রতারণা, ভুয়া তথ্য প্রচার বা মানহানির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সরকার অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাকে আপত্তিকর কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ বা হ্যাকিংয়ের জন্য কমপক্ষে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। সাইবার স্পেসে জালিয়াতি বা প্রতারণার জন্য ৫ বছরের জেল বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়াও, সাইবার সন্ত্রাসী কার্য, আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজিকশন, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ, এবং ধর্মীয় ও জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন আইনে সাইবার স্পেসে যৌন হয়রানি, কোনো ব্যক্তির অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ বা দাবি করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, হুমকি এবং রিভেঞ্জ পর্ন শাস্তির আওতায় এসেছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করবেন, যা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর মতো নিবর্তনমূলক ধারাগুলো থেকে বেরিয়ে এসে এই নতুন আইন প্রণীত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ থেকে কিছু পরিমার্জনের পর বর্তমান বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। তবে, অধ্যাদেশে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ডের বিধান থাকলেও, ত্রিশে জুন জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া সংক্রান্ত অংশটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই দিনে 'জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬' পাশ হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া বিষয়ক ধারা রাখার প্রয়োজন নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন।