উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ইরানের 'দুঃসাহসিক' হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এই জলপথ ব্যবহার করা সব পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে 'হরমুজ প্রণালির অভিভাবক' হিসেবে কাজ করবে এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল খরচ মেটাতে এই শুল্ক আদায় করা হবে। এর ফলে 'ইরানের জাহাজ বা তাদের গ্রাহকেরা' এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বাধিনায়কের নির্দেশে সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৪৫) হামলা শুরু করা হয়। ইরানজুড়ে বুশেহর, চাহ বাহার, জাস্ক, কোনারাকসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমানো।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের ব্যবহৃত একই শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন, তেহরান প্রণালিটির 'গার্ডিয়ান' বা অভিভাবক হিসেবেই থাকবে। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ইরান সবসময়ই প্রণালিটির অভিভাবক ছিল এবং চিরকাল তাই থাকবে, তবে ২০ শতাংশ শুল্ককে তিনি 'অনেক বেশি' বলে অভিহিত করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক সদরদপ্তর সতর্ক করেছে যে, প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ এবং এটি 'যুদ্ধের' শামিল।
আহত আটজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর; ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় এই 'দুঃসাহসিক' হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট অবমাননা এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরে টেলিগ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাবি করেছে, দুটি ট্যাংকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করেছিল এবং মাইন পাতা একটি রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
বৈশ্বিক নৌপরিবহন নিয়ন্ত্রক জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ফি আরোপের বিরোধী অবস্থান ব্যক্ত করেছে, কারণ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। উল্লেখ্য, সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত।
এর আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। অতীতেও আইআরজিসি তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল এবং দুটি জাহাজ জব্দ করেছিল।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, একটি চুক্তি এখনো সম্ভব। তবে এই ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ সম্ভবত এই ২০ শতাংশ চার্জ দেওয়ার সম্ভাবনায় আপত্তি জানাবে এবং এটি অভ্যন্তরীণভাবেও প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিকভাবে জটিল হতে পারে।