উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুলের প্রথম তলার পুরো কম্পাউন্ড ও বারান্দা পানিতে তলিয়ে যায়, আর ক্লাসরুমের জরাজীর্ণ ছাদ চুয়ে অবিরাম পানি পড়তে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়া বন্ধ রাখতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টির ফলেই বিদ্যালয়ের প্রথম তলার পুরো চত্বর এবং বারান্দায় প্রায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেন একটি কৃত্রিম খালের রূপ ধারণ করেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বারান্দায় বা মেঝেতে পা ফেলার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তারা প্লাবিত বারান্দায় বিদ্যালয়ের প্রথম তলার চারটি শ্রেণিকক্ষের প্রতিটির অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। কক্ষগুলোর ছাদ ও চালের বাঁশের চাটাই ও টিনের কাঠামো নষ্ট ও ফুটো হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি সিলিং চুয়ে নিচে বেঞ্চ ও মেঝের ওপর পড়ছে। পুরো ক্লাসরুমের মেঝে পানিতে সিক্ত এবং স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষেই শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।শ্রেণিকক্ষে পানি পড়া এবং পুরো কম্পাউন্ড জলমগ্ন থাকায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। যেখানে শিশুদের জন্য একটি আনন্দঘন এবং নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের কথা, সেখানে তারা এক আতঙ্ক ও অস্বস্তিকর পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
"সামান্য বৃষ্টি হলেই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। ক্লাসরুমের ভেতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়, আবার পুরো বারান্দায় পানি জমে থাকে। এভাবে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতে পারে না।"
ছাদ ও চাল সংস্কার: অবিলম্বে প্রথম তলার জরাজীর্ণ ছাদ এবং চালের কাঠামো সম্পূর্ণ মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে ক্লাসরুমে পানি পড়া বন্ধ হয়।
জলবদ্ধতা নিরসন: স্কুল কম্পাউন্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন করতে হবে, যেন বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।
সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: কোমলমতি শিশুদের যাতায়াত ও ক্লাসরুমে বসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।