উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চিকিৎসা ও ওষুধ শিল্পে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। ভারতের রেকর্ড ভেঙে তৈরি হলো দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদের তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেজ। ‘বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেজ’ (BMPPD) নামের এই সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মে স্থান পেয়েছে প্রায় ৭০০টি ঔষধি উদ্ভিদের ৬৩ হাজারেরও বেশি ঔষধি গুণসম্পন্ন রাসায়নিক উপাদানের (ফাইটোকেমিক্যাল) তালিকা।দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স'-এর ৩১ জন গবেষক ও সহকারীর দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টায় এই ডেটাবেজটি তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই তথ্যভান্ডার দেশীয় গবেষকদের সম্পূর্ণ নতুন (ডি নোভো) ওষুধ উদ্ভাবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, তাদের তৈরি এই ডেটাবেজটি ভারতের বিখ্যাত 'IMPAAT 2.0' ডেটাবেজকে পেছনে ফেলে এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের তথ্যভান্ডারে পরিণত হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ফয়সাল আহমেদ জানান:
"বাংলাদেশে ঔষধি গাছের একটি বিশাল হাব বা উৎস রয়েছে, যা আমরা যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করে আসছি। তবে এত দিন এত বিপুলসংখ্যক ঔষধি উদ্ভিদের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত ছিল না। অথচ নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নের জন্য এই তথ্যগুলো অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা প্রায় ৭০০টি উদ্ভিদের প্রায় ৬৩ হাজার ইউনিক কম্পাউন্ড বা রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করেছি।"গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ উদ্ভিদের মধ্যেও লুকিয়ে আছে প্রাণঘাতী রোগের প্রতিষেধক। উদাহরণ হিসেবে গবেষক ফয়সাল আহমেদ জানান, তাদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে—প্রকৃতিতে সহজলভ্য 'বিষকাটালি' উদ্ভিদের মধ্যে এমন একটি মলিকিউল (অণু) রয়েছে, যা লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। এমন অসংখ্য মলিকিউল ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের সাশ্রয়ী ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণ ঘটার পর ওষুধ শিল্পে বিদ্যমান বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পেটেন্ট সুবিধা উঠে যাবে। এর ফলে বিদেশি ওষুধের ওপর নির্ভরতা ও ওষুধের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গবেষকদের মতে, ঠিক এই জায়গাতেই BMPPD ডেটাবেজটি বড় ভূমিকা রাখবে। দেশেই নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্ভব হলে ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে।দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফার্মেসি খাতের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে এই মূল্যবান ডেটাবেজটি ইতোমধ্যে দেশের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স।
তবে দেশে বায়োইনফরমেটিক্স খাতের এমন বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে শুধু ওষুধ উদ্ভাবনই নয়, মলিকিউলার ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধির সাশ্রয়ী প্রতিকার ও চিকিৎসায় বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারবে