উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় একই রাতে তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ত্রধারী ৮ থেকে ১০ সদস্যের ডাকাত দল পৃথক তিনটি বাড়িতে হানা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতরা যাওয়ার সময় মামলা না করার জন্যও হুমকি দিয়ে যায়।বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩ নম্বর স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের অলংকারকাঠী গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে ডাকাত দল স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জগন্নাথকাঠী বন্দরের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালামের বাড়িতে হানা দেয়। বাড়ির সামনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা পরিবারের নারী সদস্যদের ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা এবং আনুমানিক আট ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।এর কিছুক্ষণ পর একই দল পাশের অলংকারকাঠী গ্রামে কাঞ্চন কাজীর দুই ছেলে তপু কাজী ও লিটু কাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা পেছনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে তারা পালিয়ে যায়।ভুক্তভোগী তপু কাজীর ভাষ্য, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ঘরে ঢুকে শিশু সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা ও প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে একই দল তার ভাই লিটু কাজীর বাড়িতেও ডাকাতি চালায়। যাওয়ার সময় ঘটনাটি নিয়ে মামলা না করার জন্যও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।আব্দুস সালামের জামাতা মো. রাসেল জানান, ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকে তার শাশুড়ি, স্ত্রী ও শ্যালিকাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে আলমারি থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তিনটি বাড়ি পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন পর এমন সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, "ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।