উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর ও আগানগর এলাকা এখন তীব্র যানজট আর বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যস্ততম মোড়টিতে ট্রাফিক আইন বলতে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সড়কজুড়ে বিভিন্ন গণপরিবহনের চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা একেকজন ‘অসহায় বস্তুর’ মতো দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না।স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, কদমতলী ও আগানগর এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মানার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না কোনো চালক। ব্যাটারিচালিত অটো, ভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে শুরু করে বড় বড় বিআরটিসি (BRTC) বাসের চালকেরা প্রকাশ্যেই ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলেছেন।সিগন্যাল বা নির্দিষ্ট স্টপেজের তোয়াক্কা না করে সড়কের মাঝখানেই হুটহাট গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। এতে পেছনের গাড়িগুলো আটকে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায়। নিয়ম অনুযায়ী গোলচত্বর দিয়ে গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে যাওয়ার কথা থাকলেও, চালকেরা এটাকে নিজেদের স্থায়ী স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল বানিয়ে ফেলেছে। গোলচত্বরটিকে ঘিরে সারাক্ষণ অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে শত শত অটো ও সিএনজি। ফলে সাধারণ পথচারীদের রাস্তা পারাপার হওয়াই এখন দুষ্কর এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। "এখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ভাইদের আসলেই খুব অসহায় লাগে। তারা বাঁশি বা হাতের ইশারায় গাড়ি থামাতে বা সরাতে বললে চালকেরা উল্টো তাদের দিকে তাকিয়ে হাসে কিংবা পাত্তা না দিয়ে চলে যায়। পুরো কদমতলী মোড়টা এখন চালকদের পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে।" বললেন "কদমতলীর এক নিয়মিত পথচারী"সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা কম হওয়া এবং চালকদের আইন অমান্য করার প্রবণতার কারণে পুরো এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু ইশারায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ না করে কদমতলী গোলচত্বরকে দখলমুক্ত করতে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা দরকার। একই সাথে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী অটো, ভ্যান ও বিআরটিসি বাসের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।