উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ফুটবল মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—দুই দেশই বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক বিশাল আবেগের নাম। বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই এই দুই দলকে ঘিরে পুরো বাংলাদেশে উন্মাদনার জোয়ার বয়ে যায়। তবে ফুটবল উন্মাদনার বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এই দুই পরাশক্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় নাম রয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দুই দেশের।অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় কে এগিয়ে ছিল? ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই দৌড়ে ব্রাজিলের অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সামান্য আগে। ১৯৭২ সালের ১৫ মে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় সাম্বার দেশ ব্রাজিল।ব্রাজিলের ঠিক ১০ দিন পর, অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ২৫ মে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে আর্জেন্টিনা।দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন আর শুধু ফুটবলের করতালিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দিন দিন অর্থনৈতিক সম্পর্কও বেশ জোরদার হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিল অনেক এগিয়ে।দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলো ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় আট গুণ বেশি। উভয় দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক (RMG)। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের পাল্লাই ভারী।সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার এই দুই দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন গতিশীলতা দেখা গেছে।জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একটি সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সফরের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।দীর্ঘ চার দশক বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ঢাকায় পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস। দেশটির রাষ্ট্রদূতকে প্রায়শই বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে বসে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও জয় উদযাপন করতে দেখা যায়, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরি করেছে।