উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
একাধিক সংবাদপত্রে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরও অপসারণ করা হয়নি রাজধানীর ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের অবৈধ ময়লার স্তূপ ও ডাস্টবিন। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী এই তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ সহ্য করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনেই রাস্তার ওপর বিশাল এক ময়লার স্তূপ গড়ে উঠেছে। আশপাশের বাসা-বাড়ির সব বর্জ্য প্রতিদিন এখানে এনে ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিকের বস্তা, পচা খাবারের অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য বর্জ্য মিলে তৈরি হয়েছে এক ভাগাড়।বিদ্যালয়ের ঠিক সামনে রাস্তার একাংশ জুড়ে ইটের স্তূপ করে রাখায় রাস্তাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একই সাথে কাদা, নোংরা পানি এবং আবর্জনার কারণে পুরো এলাকায় এক নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং পথচারীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ডাস্টবিনের আশপাশে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা এবং মশা-মাছির উপদ্রব শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, শ্রেণী কক্ষে শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করাচ্ছেন। কিন্তু বাইরের এই তীব্র ও ঝাঁঝালো দুর্গন্ধ সরাসরি প্রবেশ করছে প্রতিটি ক্লাসরুমে। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাসে বসেই হাত দিয়ে নাক চেপে রাখতে দেখা গেছে। দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর এই বাতাসের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকেই শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকের মতো নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংবাদপত্রে কত লেখালেখি হলো, আমরাও কতবার বললাম, কিন্তু এই ময়লার স্তূপ সরানোর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না। স্কুল গেটের সামনে এমন ডাস্টবিন কোনো সভ্য দেশে ভাবা যায় না। আমাদের বাচ্চারা প্রতিদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।"আরেক পথচারী জানান, ডাস্টবিনের পাশে যত্রতত্র আবর্জনা ছিটকে থাকায় এবং ইটের স্তূপের কারণে প্রায়ই এখানে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।এর আগে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে এই বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ডাস্টবিনটি অপসারণের জন্য বহুবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই বিদ্যালয়ের সামনের ডাস্টবিনটি অবিলম্বে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে অপসারণ করা এবং বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এখন সময়ের দাবি। কোমলমতি শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।