উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী:নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে সরকারি সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় না রেখে দায়সারাভাবে কাজ করায় তা অল্প দিনেই অকেজো হয়ে পড়ছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিআইও অফিসের মূল দায়িত্ব হলো ত্রাণ বিতরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ তদারকি করা। কিন্তু জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে উঠেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও নিজস্ব সুবিধাভোগীদের কথা মতো প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন।সরেজমিনে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পের সাইনবোর্ড নেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের নাম, ব্যয় ও মেয়াদ উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের হেরেমবোর্ডের কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। কাজ শেষ না হতেই সংস্কার করা নতুন রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী। অনেক ক্ষেত্রে কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, "সংস্কার বা উন্নয়নের নামে পিআইও অফিস কার্যত অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাজের মান এতই নিম্ন যে, সংস্কারের কয়েক দিন যেতে না যেতেই ইট ও অন্যান্য সামগ্রী খুলে পড়ছে। এটি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও সাধারণ মানুষের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পিআইও অফিস কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর তদারকি না থাকায় ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। এতে করে সরকারি রাস্তাঘাট ও স্থাপনাগুলো টেকসই হচ্ছে না।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।