উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ এবং হাওরাঞ্চলের বিপন্ন জলজপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দাবিতে জলবায়ু পদযাত্রা, গ্রাম আলোচনা এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'বারসিক' ও 'গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি'র উদ্যোগে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শিমুল গাছের নিচে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক "নূরে আলম সিদ্দিকী" বলেন: "নেত্রকোণার গ্রামীণ জনপদে এখনো শতবর্ষী বৃক্ষ, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর ও দেশীয় মাছ-পাখির সমৃদ্ধ পরিবেশ টিকে আছে। তবে দখল, দূষণ ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে জলমহাল এবং মাছের অভয়াশ্রমগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং সংকটে পড়ছে জেলেদের ঐতিহ্যবাহী পেশা।" তিনি মদন উপজেলার ১৩টি ঐতিহাসিক ও শতবর্ষী বৃক্ষসহ স্থানীয় জলাশয়গুলো রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:মনোহরপুর গ্রামের ৩০০ বছরের পুরোনো শিমুল গাছজয়বাংলা বাজার, কেশজানি গ্রাম ও উচিতপুর বাজারের বটগাছখালিয়াজুরি হাওর ও বালইপাড়ের হিজল গাছবরাটি গ্রামের ঐতিহাসিক গাব গাছঅন্যান্য বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট ও দূষণের কারণে জলজ উদ্ভিদ ও দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটকালে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা না গেলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।গ্রাম আলোচনা শেষে পরিবেশকর্মী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও গ্রামবাসীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য **জলবায়ু পদযাত্রা** অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রাটি মনোহরপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেই ঐতিহ্যবাহী শিমুল তলায় এসে শেষ হয়।কর্মসূচির শেষভাগে বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের একটি প্রতিনিধিদল মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।স্মারকলিপিতে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো:১. নেত্রকোণা জেলার সকল শতবর্ষী, ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও স্মারক বৃক্ষের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।২. হাওরাঞ্চলের জলজপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।৩. নদী, খাল, বিল ও হাওর পুনঃখনন করে মাছের নিরাপদ অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে।