উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।এই ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা শহরে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় দুই হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে তা কেবল দুটি জেলার মেলবন্ধন ঘটাবে না, বরং গোটা উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাবে। সেতুটি চালু হলে যাতায়াতের সময় ও খরচ অনেকাংশে কমে আসবে।বক্তাদের মতে, এই সেতু এ অঞ্চলের:কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য: উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরে যাতায়াত সহজ হবে।শিল্প খাত: নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।"আমাদের এই দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এখনো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে এই প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"।মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন সংহতি প্রকাশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যমানববন্ধনে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন:মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর, বালিজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুঞ্জুরুল ইসলাম মুছা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান সাকু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজনু ফকির, সাবেক মেয়র মোশারফ হোসেন লেমন তালুকদার, শিক্ষক আব্দুল মোত্তালিব সেলিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।মানববন্ধন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশগ্রহণকারী বক্রাতারা বলেন, জামালপুর ও বগুড়া জেলার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে এই সেতুর কোনো বিকল্প নেই। উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানান।