উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়সাংবাদিকতা কি অপরাধ? সত্য প্রকাশের মূল্য কি হামলা, নির্যাতন আর বিচারহীনতা?পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর কতবার সাংবাদিকদের রক্ত ঝরবে? আর কত সাংবাদিক হামলা, হুমকি, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হওয়ার পর ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরবেন? সময় এসেছে এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজার এবং নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।বর্তমান বাস্তবতায় সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি কিংবা নিউজ কভারেজে যাওয়ার সময় প্রত্যেক সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা সাংবাদিক সেফটি কিট সঙ্গে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তাসামগ্রী কখনোই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আইনের সুরক্ষা কিংবা অপরাধীদের বিচারের বিকল্প হতে পারে না।আমিও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু আজও ন্যায়বিচার পাইনি। আমার মতো অসংখ্য সহকর্মীও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন। ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্ন জাগে—আর কত দিন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চলবে? আর কত দিন সত্য প্রকাশের অপরাধে সাংবাদিকদের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে?সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়; এটি একটি মহান দায়িত্ব ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশা। সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ। তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার মানুষের সামনে উঠে আসে। অথচ সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদেরই হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের জানার অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে?সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি অধিকারসাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার বিভেদ, দলাদলি ও পারস্পরিক অসহযোগিতা পরিহার করতে হবে। কারণ, বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ কখনোই নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ গড়াই সময়ের দাবিএই বাস্তবতায় সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা, পেশাগত স্বাধীনতা ও সার্বিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)-কে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।আমাদের লক্ষ্য শহর থেকে গ্রাম, মহানগর থেকে মফস্বল—দেশের প্রতিটি প্রান্তের সাংবাদিককে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা। নির্যাতিত, নিপীড়িত, হয়রানির শিকার ও অধিকারবঞ্চিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সম্মিলিত ভূমিকা রাখা।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মূল্যবোধকে ভিত্তি করে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির বিরুদ্ধে আইনসম্মত, শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।আমরা কারও প্রতিপক্ষ হতে চাই না। আমরা চাই না কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা গোষ্ঠীর সঙ্গে অযথা বিরোধ সৃষ্টি হোক। আমাদের অবস্থান অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আমাদের দাবি ন্যায়বিচারের পক্ষে। আমাদের অঙ্গীকার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা।এবার প্রশ্ন নয়, প্রয়োজন কার্যকর ঐক্যমনে রাখতে হবে, একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে শুধু একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হন না; আক্রান্ত হয় স্বাধীন সাংবাদিকতা, সত্য প্রকাশের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের জানার অধিকার।তাই আসুন—- সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য গড়ে তুলি।- হামলা ও নির্যাতনের শিকার সহকর্মীর পাশে দাঁড়াই।- পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।- সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করি।- প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলি।- সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাই।আমাদের মনে রাখতে হবে, একা একজন সাংবাদিক দুর্বল হতে পারেন, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ কখনোই অসহায় নয়।আসুন, ভয় নয় সাহস নিয়ে এগিয়ে যাই। বিভেদ নয়, ঐক্যের শক্তিতে বলীয়ান হই। সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই।সাংবাদিক বাঁচলে, স্বাধীন সাংবাদিকতা বাঁচবে।সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হলে, অধিকার ও নিরাপত্তার সংগ্রাম শক্তিশালী হবে।সত্যের পক্ষে, সাংবাদিকদের পাশে।ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক, শক্তিশালী সমাজ।ধন্যবাদান্তে,কর্তৃপক্ষসাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)