উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। অসময়ে শিমের বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারদর পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ পদ্ধতিতে শিম চাষের চাহিদা।দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চিরিরবন্দর উপজেলার ৮নং সাইতাড়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় ‘আলী-৪৫’ ও ‘কেরালা’ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের সফল চাষ হয়েছে।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শীতকালীন শিমের মতো উঁচু মাচা তৈরির ঝামেলা ছাড়াই এসব জাতের শিম বস্তা পদ্ধতিতে কিংবা খাটো মাচায় চাষ করা যায়। বীজ বপনের মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং প্রায় ৬০ দিনের মাথায় শিম বাজারজাত করা সম্ভব হয়। ফলে অল্প সময়ে উৎপাদন ও বাজারজাতের সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। নতুন জাতের কেরালা শিম বস্তায় এবং ছোট-বড় মাচায় চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।এদিকে ৫০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় কৃষক মো. শাহাদাৎ হোসেন সোহাগ। তিনি জানান, তাঁর শিমগাছের বয়স প্রায় আড়াই মাস। ইতোমধ্যে দুই দফায় শিম সংগ্রহ করেছেন। ৫০ শতক জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকা। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ জমি থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন তিনি।সোহাগের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁর এক প্রতিবেশী কৃষক বলেন, আগে তাঁদের এলাকায় এভাবে অসময়ে শিম চাষ হতো না। সোহাগের সফলতা দেখে অনেক কৃষক উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী মৌসুমে তাঁরাও এ পদ্ধতিতে শিম চাষ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল হক নবাব বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এখানে ৫০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে কৃষকরা এ চাষ থেকে ভালো লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এখানে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ‘রি-জেনারেটিভ কৃষি’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে জমি প্রচলিত নিয়মে চাষ না করেও বস্তায় শিম উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্প সময়ে উৎপাদন, তুলনামূলক কম খরচ এবং ভালো বাজারদরের কারণে চিরিরবন্দরে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।