উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডানপন্থি রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার খবর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে থাকা এই রাজনীতিকের দেশত্যাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট বাতিলের খবরের মধ্যেও তিনি কীভাবে ব্রাজিল ছাড়লেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই তার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর সামনে এসেছে।সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশ করলেও তিনি দেশটির কোন এলাকায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানায়নি সংবাদমাধ্যম দুটি।এদিকে ব্রাজিলের পুলিশের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, দেশ ছাড়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তবে এএফপির হাতে আসা ইতালির পার্লামেন্টের একটি নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ইতালির নাগরিকত্ব রয়েছে ফ্লাভিওর। তার বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে এই নাগরিকত্বের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তার সফরের উদ্দেশ্য কিংবা যাত্রাপথ সম্পর্কে দপ্তরটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক রোজেরিও মারিনিও তার দেশত্যাগের খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, ফ্লাভিও কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।মারিনিও বলেন, নির্বাচনী প্রচারের পর ফ্লাভিওর সঙ্গে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছে একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে। সেখানে ফ্লাভিও কিছুটা সময় নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন। এর বাইরে তার অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাননি বলে জানান প্রচার ব্যবস্থাপক।ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ঘটনাটিকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ গোপনে দেশ ছেড়ে চলে গেলে তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।এর আগে ফ্লাভিও দাবি করেছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ তাকে ভয় দেখানোর কৌশল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাভিওর পরাজয়ের পর তিনি নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।ফ্লাভিওর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। সাবেক এই আইনপ্রণেতার সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এক পডকাস্টে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তদন্তের মুখে থাকা তার ভাইয়ের ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়া উচিত।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন লুলা। অন্যদিকে ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্লাভিও। তার দাবি, পরিবহন সমস্যার কারণে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ কারণে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে ভোটের সময় বাড়ানোর অনুরোধ লুলা ও বলসোনারো-উভয় পক্ষ থেকেই এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।