উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শ্যামনগরে দুর্গাপূজার ডিউটি পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবিসাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন এবং কার্যালয়ের ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টর (টিআই) আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার ৭০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৪৫০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসব দায়িত্বের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ৭০০ জন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অনলাইনে আবেদন করার পরও দায়িত্ব পেতে তাঁদের অর্থ দিতে হয়েছে।রমজাননগর ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপি দলপতি মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকার ৩৪ জন সদস্যকে দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপজেলা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সদস্যদের কাছ থেকে মোট ২৬ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে ওই টাকা টিআই আলমগীর হোসেনের কাছে জমা দেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, অস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্য শেখ মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, ১ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানানোর কারণে তাঁকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।চিংড়িখালী ও যাদবপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের আনিচ হোসেন, কৃষ্ণপদ জোয়ারদার, মুকুল হোসেন ও ইসরাফিল হোসেনসহ আরও কয়েকজন সদস্য একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তাঁরা।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর স্বামী জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় বর্তমানে কথা বলা সম্ভব নয়।অন্যদিকে, অভিযুক্ত টিআই আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।”তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।